বিশেষ প্রতিবেদক:
গত তিন বছরে কৃত্রিম তন্ত্রের পোশাক রপ্তানি ২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৯ শতাংশ হয়েছে এক সমীক্ষায় এমন তথ্য জানিয়েছে পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানি খাতের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ। সমীক্ষায় সংগঠনটি আরো জানায়, বাংলাদেশ নন-কটন ফাইবার শিল্পে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করলে ২০৩২ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের নন-কটন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। গতকাল রবিবার (৩ মার্চ) রাজধানীর পূর্বাচলে বিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘বিয়ন্ড কটন এ স্ট্র্যাটেজিক ব্লুপ্রিন্ট’ শীর্ষক এক সমীক্ষায় এ তথ্য জানায় সংগঠনটি। ভারতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়াজির অ্যাডভাইজার্স প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবসায?িক পরিচালক বরুণ বৈদ এ গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করেন। গত দুই বছরে ধরে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে উজির অ্যাডভাইজার্স প্রাইভেট লিমিটেড এই সমীক্ষা পরিচালনা করে। প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখা যায়, কৃত্তিম তন্ত্রের পোশাকের বৈশ্বিক বাজারে ৭৫ শতাংশ। এর বিপরীতে বাংলাদেশ ৭৫ শতাংশ তুলার পোশাক রপ্তানি করে। স্থানীয় পর্যায়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকরা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক দর ভালো পাওয়ায় এ খাতের পোশাকের রপ্তানি বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী কৃত্তিম তন্ত্রের পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশের নন-কটন ফাইবার ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নন-কটন ফাইবার শিল্পে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করলে ২০৩২ সালের মধ্যে ৪ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের নন-কটন গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, কৃত্রিম তন্ত্র ব্যবহার করে বিজিএমইএ স্থানীয়ভাবে তৈরি পোশাকের বৈশ্বিক বাজার হিস্যা বর্তমান ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ থেকে ১২ শতাংশে নিয়ে যেতে চায়। মকারণ তুলার তৈরি পোশাকের চেয়ে এসব পণ্যের পোশাক মূল্য বেশি। তিনি বলেন, এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ফ্যাশনেও পরিবর্তন এসেছে। কারণ ভোক্তারা সুতির আইটেমগুলোর চেয়ে নন-কটন পোশাক বেশি পছন্দ করে। এর স্থায?িত্বও বেশি। তাই সম্প্রতি নন-কটন ফাইবার আমদানি বেড়েছে। তুলারের বৈচিত্র্যের অর্থ এই নয় যে উৎপাদনের ভিত্তিটি তুলো ফাইবার থেকে সরানো হয়েছে। ফারুক হাসান বলেন, স্থানীয় পোশাক রপ্তানিকারকরা বেশীরভাগ সুতি পোশাক তৈরি করছে। এরফলে বাজার বড় হলেও ভালো দামের জন্য এবার কৃত্রিম তন্ত্রের পোশাকের পরিমাণ বাড়াচ্ছে। বাংলাদেশ প্রধানত মৌলিক পোশাক বানায় এমন পুরানো ধারণাটি আর সত্য নয়। কারণ এখন আমরা প্রতি পিস ১০০ ডলারের বেশি বেশি মূল্যের জ্যাকেটের মতো উচ্চ মূল্য সংযোজন আইটেম রপ্তানি করছে।