নিজস্ব প্রতিনিধি:
টিসিবি কার্ডধারীদের তালিকা দেশব্যাপী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে হালনাগাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার পলিটেকনিক মাঠে ‘দেশব্যাপী এক কোটি ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে টিসিবি পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম মার্চ ২০২৪’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামীতে টিসিবি ডিলারশিপ স্থায়ী করা হবে, যাতে মানুষের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে না হয়। কার্ডধারীরা সুবিধাজনক সময়ে এসে পণ্য নিতে পারবেন। বাজার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। পণ্যের সরবরাহ লাইনে ত্রুটিমুক্ত করা হবে। চিনির প্রসঙ্গে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে আহসানুল ইসলাম বলেন, টিসিবির চিনি আগের দামে বিক্রি করা হবে, দাম বাড়ানো হবে না। চিনির পর্যাপ্ত মজুদ আছে। বাজারে চিনির কোনো সংকট হবে না। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের দিন, যে ভাষণে বঙ্গবন্ধু জাতিকে স্বাধীনতা সংগ্রামের দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জাতির পিতার ভাষণটি আজ বিশ্বের ঐতিহাসিক দলিল। এ সময় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান, টিসিবির অতিরিক্ত পরিচালক আবুল হাসনাত চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তিব্বত মোড়ের পূর্ব কলোনি বাজার সংলগ্ন পলিটেকনিক মাঠে এ উদ্বোধন অনুষ্ঠান হয়। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা কখনই চাই না পুলিশ-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে বাজারের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে। বাজারে যদি সাধারণ গতি থাকে, সুষ্ঠুভাবে চলে, আমি বিশ্বাস করি বাজারে ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া যাবে। আমরা সেই চেষ্টাই করছি। তবে সেটা না হলে আমরা সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেবো। এই রমজানে বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে। আহসানুল ইসলাম বলেন, কিছু সুবিধাভোগী লোক আছে যারা সবসময় বাজার ব্যবস্থাপনা ত্রুটিগুলোকে অজুহাত বানিয়ে মুনাফা করতে চায়। আমরা চেষ্টা করছি তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে। অন্যদিকে অনুষ্ঠানে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, শিগগিরি নতুন করে টিসিবি ডিজিটাল ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হবে। ফ্যামিলি কাডধারীরা অনেকে মারা গেছেন, অনেকে এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন- এমন কিছু বিষয় রয়েছে। যে কারণে নতুন করে টিসিবির ডিজিটাল কার্ড হালনাগাদ করা হচ্ছে। আমরা সব এমপি, ডিসি ও অন্য প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছি এ তালিকা শিগগির দেওয়ার জন্য। তিনি আরও বলেন, টিসিবির পণ্য কিনতে অনেকের সারাদিনের কাজ নষ্ট হয়, দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। আমরা প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ডিলারদের নির্দিষ্ট দোকান করার চেষ্টা করছি। যেখান থেকে মানুষ নিজের সুবিধামতো সময়ে পণ্য কিনতে পারবেন।