২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

পরিকল্পনাতেই আটকে নৌপথ প্রকল্প

admin
প্রকাশিত মার্চ ১২, ২০২৪, ০১:১৬ পূর্বাহ্ণ
পরিকল্পনাতেই আটকে নৌপথ প্রকল্প

বিশেষ প্রতিবেদক:
রাজধানীর হাতিরঝিলের পর গুলশান-বনানী-বারিধারা ঘিরে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নৌপথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল ২০১০ সালে। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিল সংস্থাটি। ২০১০ সালে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও মূল কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে। তবে সেটিও আটকে যায় পরিকল্পনার বেড়াজালে। পরে হাতিরঝিল হয়ে গুলশান-বনানী লেকে নৌ চলাচলে ২০২০ সালে একটি প্রকল্প প্রস্তাব তৈরি করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২২ সালে সেই প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উঠানো হলেও এখনো অনুমতি মেলেনি। তাই এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তবে উত্তরের মেয়র সমাধান দেখছেন বর্তমান অবকাঠামোর মধ্যেই। তিনি বলছেন, আবাসিক এলাকার সোসাইটিগুলো যদি চায় বর্তমান অবকাঠামোতেও নৌপথ চালু করা সম্ভব। তবে সেখানে আবার দ্বিমত রয়েছে সোসাইটির। দেখা যায়, গুলশান-বনানী লেকে নৌ চলাচলে কিছুটা বিপত্তি তৈরি করেছে ছোট ছোট কালভার্ট। লেক দুটির মাঝ বরাবর ছোট ছোট ছয়টি কালভার্ট রয়েছে। কালভার্টগুলোর নিচ দিয়ে ওয়াটার ট্যাক্সি বা নৌ চলাচলের সুযোগ নেই। তবে প্রকল্প অনুমোদন হলে সেতু নির্মাণ করলে নৌ চলাচল করতে পারবে। প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় না থেকে গুলশান ও বনানী লেকে নিজ উদ্যোগে নৌ চলাচলের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট সোসাইটিকে (গুলশান, বনানী, নিকেতন, বারিধারা) আহ্বান জানিয়ে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কালভার্ট ভাঙা ছাড়াও গুলশান-বনানী লেকে নৌ চলাচলের সুযোগ রয়েছে। এখন হাতিরঝিলের বাড্ডা লিংক রোড পর্যন্ত (গুদারাঘাট) নৌ চলাচল করে। এ রোডের উত্তর পাশে গুলশান-বারিধারা লেক। সেখান থেকে আরেকটি নৌযানে সহজেই গুলশান-২ ও বারিধারায় যাওয়া সম্ভব হবে। আবার গুলশান-২ থেকে বারিধারা সড়ক পার হয়ে সরাসরি কালাচাঁদপুর পর্যন্ত চলে যাওয়া যাবে। একইভাবে গুলশানের শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্কের পাশ দিয়ে নিকেতন-গুলশান-১ সড়কে নামা যাবে। এখানে সড়কটি হেঁটে পার হয়ে আবার নৌকা বা ওয়াটার ট্যাক্সিতে মহাখালী-গুলশান-১ রোডে যাওয়া যাবে। এ রোডটি পার হয়ে আবার নৌকায় উঠলে বনানী-গুলশান-২ সড়ক পর্যন্ত যাওয়া যাবে। এ ছাড়া একইভাবে আবার নৌযানে উঠে সরাসরি বনানী কবরস্থান পর্যন্ত যাতায়াত করা সম্ভব। তাই নাগরিকদের নির্বিঘ্ন যাতায়াতে গুলশান, বারিধারা, বনানী ও নিকেতন এলাকার সোসাইটি এ উদ্যোগ নিতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘লেক দুটি নিয়ে ডিএনসিসি যে প্রকল্প প্রস্তাব করেছে, তা অনুমোদন হলে এ অভিজাত এলাকার নাগরিকরাই বেশি উপকৃত হবেন।’ পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ‘আমরা সব কিছুতেই বড় প্রকল্পের অপেক্ষায় থাকি। সেটা না করে নিজেদের অবকাঠামো কী আছে, সেটা দিয়ে কী করা সম্ভব তা ভাবতাম, তাহলে অনেক কিছু সমাধান হয়ে যেত।’ গুলশান সোসাইটির সহসভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির বলেন, ‘নৌপথ চালুর বিষয়ে আমাদের এখন কোনো পরিকল্পনা নেই। আমরা লেকের পানি পরিষ্কারের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছি। এ বিষয়ে মেয়র সাহেবকে জানানো হয়েছে। লেকের পানি পরিচ্ছন্ন করা গেলে অবশ্যই নৌপথ নিয়ে ভাবা হবে। তবে আমরা এটিকে বাণিজ্যিকায়ন করতে চাই না। যেহেতু গুলশান-বনানী আবাসিক এলাকা।’