২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

বাংলাদেশি জাহাজ জিম্মি ৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে সোমালিয়ার দিকে যাচ্ছে এমভি আব্দুল্লাহ

admin
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২৪, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশি জাহাজ জিম্মি ৫ নটিক্যাল মাইল গতিতে সোমালিয়ার দিকে যাচ্ছে এমভি আব্দুল্লাহ

স্টাফ রিপোর্টার :
সোমালি জলদস্যুদের হাতে জিম্মি বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এম ভি আব্দুল্লাহকে সোমালিয়ার উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে জাহাজটি প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল গতিতে সোমালিয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যে গতিতে জাহাজ চলছে তাতে করে জাহাজটি সোমালিয়ান উপকূলে পৌঁছাতে আরও তিন থেকে চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম। কয়লা বোঝাই করে মোজাম্বিক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) সোমালি জলদস্যুদের কবলে পড়ে বাংলাদেশে কবির গ্রুপের মালিকানাধীন এমভি আবদুল্লাহ। কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম আরো বলেন, জাহাজটি সোমালিয়া কোস্টের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। সোমালিয়া কোস্ট থেকে এখনো ৪১০ নটিক্যাল মাইল দূরে রয়েছে। জাহাজে থাকা নাবিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলেও ডাকাতদের সঙ্গে এখনো সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। কাজেই কী কারণে জাহাজটি হাইজ্যাক করা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। দস্যুদের হাতে পড়ার পর জাহাজটির প্রধান কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ খান একটি অডিও বার্তা পাঠিয়েছেন। সেই বার্তায় ঘটনার বিবরণ ও বাঁচানোর আকুতি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে একটা হাই স্পিডবোট আমাদের জাহাজের দিকে আসতে থাকে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম দিই এবং সবাই ব্রিজে গেলাম। এরপর জলদস্যুরা চলে এলো। তারা ক্যাপ্টেন ও দ্বিতীয় কর্মকর্তাকে ঘিরে ফেললো। আমাদেরকেও ডাকলো এবং কিছু গোলাগুলি করলো। তবে তারা কারো গায়ে হাত তোলেনি। আরেকটি স্পিডবোটে আরো কয়েকজনের আসার কথা উল্লেখ করেন তিনি বলেন, এরপর একটা বড় মাছ ধরার জাহাজ আমাদের পাশে এসে পৌঁছালো। ইরানের মালিকানাধীন ওই জাহাজ এক মাস আগে জিম্মি করেছিলো। তবে দস্যুরা আমাদের জাহাজ ও জিম্মিদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি করেনি বলে জানান এমভি আবদুল্লাহর প্রধান কর্মকর্তা আতিক উল্লাহ। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় স্ত্রীকে এক বার্তা পাঠিয়ে আতিক বলেন, টাকা না দিলে আমাদেরকে মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে দস্যুরা। উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পতাকাবাহী এমভি জাহান মণির ছিনতাই করে করে সোমালি জলদস্যুরা। ওই জাহাজটিও ছিলো কবীর গ্রুপের। সে সময় দরকষাকষি করে চুক্তির মাধ্যমে ২৫ নাবিকসহ জাহাজটি ছাড়িয়ে আনে মালিকপক্ষ। তবে চুক্তির শর্ত কখনোই প্রকাশ করা হয়নি। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম বলেন, ‘২০১০ সালেও একই কোম্পানির আরেকটি জাহাজ হাইজ্যাক হয়েছিলো। তবে এখন পর্যন্ত নাবিকরা সবাই নিরাপদে আছে।সম্পাদক এ কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বর্তমান সরকার জন-আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। দেশে কোনো গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকট নেই এবং আগামী পাঁচ বছর পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে দেশব্যাপী স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ক্ষমতায়ন ও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, এখন জাতির সামনে এমন কোনো সংকট নেই, যার জন্য রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে সংলাপের কোনো আবশ্যকতা বা প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশবিরোধী অপশক্তির নানামুখী অপতৎপরতা ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত এবং প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেই দেশের উন্নয়ন অভিযাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত অভীষ্ঠে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, বিএনপি নেতারা অবিবেচনাপ্রসূত ও অযৌক্তিকভাবে মিডিয়ার সামনে সংলাপের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনার বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বের ভারে বিধ্বস্ত জনবিচ্ছিন্ন বিএনপির এই আলোচনার আবদার অর্থহীন। কারণ তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক রীতি-নীতির তোয়াক্কা না করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে মেতে উঠেছিলেন। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত রাখার লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিএনপিকে আলোচনার জন্য আহ্বান করা হলেও তখন তারা সাড়া দেননি। বরং তারা নির্বাচন বানচালের জন্য সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন। আজ তারা কোন মুখে আলোচনার কথা বলেন? বিএনপি সব সময় প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের শর্তযুক্ত সংলাপের দাবি করে আসছে। এমনকি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বেও এই দাবিতে তারা সরকার পতনের তথাকথিত এক দফার আন্দোলনের মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু দেশবাসী তাদের অযৌক্তিক দাবিতে কোনো সাড়া দেয়নি। আমরাও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলে আসছি, শর্তযুক্ত কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আওয়ামী লীগ সব সময়ই গণতন্ত্রের সুষ্ঠু বিকাশ এবং উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্রের পথকে আরও মসৃণ করার এবং গণতন্ত্রের অন্তর্নিহিত আদর্শ সুপ্রতিষ্ঠার জন্য আওয়ামী লীগ যে কারও মতপ্রকাশের পথকে উন্মুক্ত রেখেছে। সেক্ষেত্রে গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে আওয়ামী লীগ যেসকল সংস্কার করেছে তার স্বীকৃতি দিয়ে যে কেউ ভাবীকালের গণতন্ত্রের পথকে মসৃণ করার লক্ষ্যে যে কোনো প্রস্তাব রাখতে পারে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ শুধু একটি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়া নিয়ে নয়, বরং দেশের গণতন্ত্রকে একটি শক্তিশালী ভীতের উপর প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ কখনো কোনো ষড়যন্ত্র বা চাপের মুখে জনস্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়নি, কখনো কারও কাছে মাথা নত করেনি করবেও না। বাংলাদেশের অগ্রগতির ধারাকে সমুন্নত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।