১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৭ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নবীন শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্ভাবক ও দক্ষ নাগরিক হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

admin
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
নবীন শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী নয়, উদ্ভাবক ও দক্ষ নাগরিক হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার

এনবি ডেস্ক: বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, নতুন বাংলাদেশ গড়তে শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, প্রয়োজন দক্ষ, সৃজনশীল, চিন্তাশীল ও দায়িত্বশীল নাগরিক। নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আগামী দিনের উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, গবেষক ও বিজ্ঞানী। জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি সৃজনশীল চিন্তা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মের মেধা, যোগ্যতা ও সৃজনশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বুধবার  ১৬ সেপ্টেম্বর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীন-বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপদেষ্টা একথা বলেন।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিনটি সবার জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, এখান থেকে শিক্ষার্থীরা ভিন্নভাবে চিন্তা করা, নানা উপায়ে সমস্যার সমাধান করা এবং ভিন্নমতকে সম্মান করতে শেখে। একই সঙ্গে তারা সহনশীলতা, ব্যক্তিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জনের পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও বিশ্ব সম্পর্কে জানার সুযোগ পায়।

উপদেষ্টা বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নয়। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মেধাবী মানুষের পাশাপাশি মানবিক মানুষও তৈরি হবে। এমন মানুষ, যারা নিজেদের সাফল্যের পাশাপাশি অন্যের কথা ভাববে এবং দুর্বল মানুষ বা সমাজের কোনো সমস্যা দেখলে তা এড়িয়ে যাবে না।
উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮০০ ডলার থেকে ৪ হাজার ৫০০ ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে দেশের সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণে রেখে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নবীন শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে হবে। তিনি বলেন, তোমরা যেখানেই যাও, এই দেশের জন্য কিছু করবে। মানুষ হিসেবে বড় হবে। তোমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা রাষ্ট্রের সম্পদ। তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা একটিই জ্ঞান অর্জন করে নিজেকে গড়ে তুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জুলাইয়ের শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণে রেখে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজের জায়গা থেকে অবদান রাখা।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শুধু সমাজ গড়ার কারিগর তৈরির প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সমস্যা সমাধানের পথও দেখাতে হবে। এ জন্য স্থানীয় মানুষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত হয়ে কৃষি, পরিবেশ, পানি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান, নগর ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, এমন গবেষণা প্রয়োজন, যার ফলাফল শুধু জার্নালে প্রকাশিত হবে না বরং বাস্তব জীবনে মানুষের উপকারে আসবে এবং রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য যে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয় এবং ২০০৬ সালের ০৬ এপ্রিল বিএনপির সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের আপোশহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২২ জুন ২০০৬ হতে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য, নোয়াখালী-৪ এর সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান (এমপি)। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন এর সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, নোবিপ্রবি এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোঃ হাছান উদ্দীন, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদ, নোয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এবং নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। অনুষ্ঠান শুরুর আগে নোয়াখালী সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি সদস্য, কর্মকর্তা ও ছাত্রছাত্রীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।