২রা নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

অনিয়ম পেলে সার ডিলারশীপ বাতিল, কর্মকর্তা জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা-কৃষি মন্ত্রী

admin
প্রকাশিত নভেম্বর ২, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
অনিয়ম পেলে সার ডিলারশীপ বাতিল, কর্মকর্তা জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা-কৃষি মন্ত্রী

এস এম তাজুল ইসলাম : কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম পেলে ডিলারশীপ বাতিল, কর্মকর্তা জড়িত থাকলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজ মন্ত্রী সচিবালয়স্থ কৃষি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আসন্ন রবি মৌসুমে সার সরবরাহ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে এসব কথা বলেন।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: সেলিম খানের সভাপতিত্বে সভায় দেশের সকল জেলার জেলা প্রশাসক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, সার বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা কৃষক হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সার ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো কর্মকর্তা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সভায় সার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, নতুন ডিলার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তদের লাইসেন্স প্রদানের পাশাপাশি তাঁদের ডিলারশিপ এলাকা নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ, কৃষকের সংখ্যা ও ফসলের নিবিড়তা বিবেচনায় নিতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী ডিলারদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি ডিলারের দোকানে মূল্যতালিকা ও মজুতের তথ্য প্রদর্শন করতে হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দাম আদায়, মজুতদারি এবং সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে সার পাচারের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড ও কৃষকের তালিকা ব্যবহারের নির্দেশনাও দেন কৃষিমন্ত্রী।

অসন্ন রবি মৌসুমের জন্য সারের বরাদ্দ ও সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অতীতের তুলনায় এ বছর চাহিদার চেয়েও বেশি সার সরবরাহ করা হয়েছে। নতুন কোনো ফসলের আবাদ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি। এরপরও চাহিদা বাড়লে তা মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত রয়েছে। তবে বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সার পাচার রোধে কঠোর নজরদারি রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশগুলোর কিছু এলাকায় নন-ইউরিয়া সারের চাহিদা ও দাম বেশি থাকায় এসব সার পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। আবার কোথাও ইউরিয়ার সংকট থাকায় বাংলাদেশ থেকেও ইউরিয়া পাচার হতে পারে। কোনো অবস্থাতেই দেশের সার দেশের বাইরে যেতে দেওয়া যাবে না।

মন্ত্রী বলেন, সারে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়। এই ভর্তুকির সুফল যেন প্রকৃত কৃষক পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। একদিকে সারের সংকটের অভিযোগ, অন্যদিকে গুদামে বিপুল পরিমাণ সার মজুত কিংবা পাচারের ঘটনা থেকে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে জেলা প্রশাসকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো জেলায় সার নিয়ে অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের জবাবদিহি করতে হবে।

কৃষক যাতে ন্যায্যমূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় পরিস্থিতি, পরিবেশ ও প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় জেলা প্রশাসক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সারের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ও বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ বন্ধ করতে হবে।

ইউরিয়া সার শিল্পকারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। বিশেষ করে বস্ত্র ও ডাইং কারখানায় ইউরিয়া ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এ জন্য জেলা পর্যায়ের সার মনিটরিং কমিটিকে নিয়মিত সভা করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।