৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৯শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

সব শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

admin
প্রকাশিত অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ণ
সব শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শিশুদের রোগ প্রতিরোধে গ্রাম ও শহরের সব শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মোঃ সাখাওয়াত হোসেন। কোনো শিশু যেন টিকাদান থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রতিটি বাড়ি ও মহল্লায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী ১৪ অক্টোবর বুধবার ঢাকায় একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইলেন্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬ এর ফলাফল অবহিতকরণ’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃব্যে এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
মন্ত্রী বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে টিকাদানের বৈষম্য দূর করতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদানের উপযোগী শিশুদের চিহ্নিত করে টিকার আওতায় আনতে হবে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি শিশুর কাছে টিকা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে শতভাগ টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে
টিকার গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, টিকা সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সরবরাহ থেকে শুরু করে প্রয়োগ পর্যন্ত টিকার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, টিকার কার্যকারিতা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়মিত যাচাইয়ের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ ও মহামারি থেকে সুরক্ষিত রাখতে টিকাদান কর্মসূচির বিকল্প নেই। ১৯৭৯ সাল থেকে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শিশুদের বিভিন্ন মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্যাভি, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ আন্তর্জাতিক সহযোগী সংস্থাগুলোর অবদানও তুলে ধরেন তিনি।
এসময় ড. এস, এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে নগরবাসী-সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকার স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আরো এক লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি আরো বলেন, টিকাদান কর্মসূচি ও রোগ নজরদারির ফলাফল মূল্যায়ন দেশের সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কর্মশালায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডা. রাজেশ নরওয়েল, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।