নিজস্ব প্রতিবেদক: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেকেই কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিয়েছেন। পরে সেই অর্থ বিদেশে পাচার করে তারা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। এর প্রভাব পড়ছে দেশের শিল্পখাতেও। অর্থসংকটসহ নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছু কারখানা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
বন্ধ থাকা এসব শিল্প-কারখানা কীভাবে পুনরায় চালু করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কারখানাগুলো সচল করা গেলে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত হবে। বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী।
এর আগে অনুষ্ঠানে সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপমহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মাহবুবুল হাসান বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের আরএমজি কারখানা, নন-আরএমজি কারখানা, শিল্প ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এবং দোকানসহ মোট ১০,৫৬৭টি প্রতিষ্ঠানে ৪,১৭,৬০৮ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে মালিকের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ নির্দ্দিষ্ট অর্থ প্রদানের বিধান রয়েছে। দুর্ঘটনায় কোনো শ্রমিকের মৃত্যু হলে ২,০০,০০০/- টাকা এবং স্থায়ীভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম হয়ে পড়লে ২,৫০,০০০/- টাকা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিল থেকেও শ্রমিকদের বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়। এর আওতায় কোনো শ্রমিকের মৃত্যুতে ২,০০,০০০/- টাকা, আহত শ্রমিকের চিকিৎসায় ২৫,০০০/- টাকা থেকে ২,৫০,০০০/- টাকা পর্যন্ত এবং শ্রমিক পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় ২৫,০০০/- টাকা থেকে ৩,০০,০০০/- টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিগত ৩ বছরে ৪৯৮ জন সুবিধাভোগীকে ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং বিগত ৬ মাসে ৫৮৪ জনকে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিগত ১ বছরে শ্রম অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।
মুক্ত আলোচনায় শ্রমিক প্রতিনিধিরা গর্ভবতী নারী শ্রমিকদের বেআইনি ছাঁটাইয়ের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কালুরঘাটে অবস্থিত মহিলা হোস্টেলের পাশের ৫ শয্যার হাসপাতালটিকে অ্যাম্বুলেন্স সুবিধাসহ ১০ শয্যায় উন্নীত করার দাবি জানান। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা শ্রম আইন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করেন এবং আইন মেনে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি স্বীকৃতি বা রিকগনিশন দেওয়ার আহ্বান জানান।
উক্ত মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ জেলার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ